Click Below

Breaking

Know more

Search

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

চীনে শত দিবসের সংস্কার আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ আলোচনা কর || B.A HISTORY HONOURS



প্রশ্ন,

শত দিবসের সংস্কার আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ আলোচনা কর?


1898 খ্রিস্টাব্দে 11ই জুন থেকে 21 শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্রাট ওয়াং সু, কাং-ইউ-ওয়েই, লিয়াং-চি-চাও ও অন্যান্যদের পরামর্শ দিয়ে 40-50 টি রাজ আজ্ঞার মাধ্যমে চীনে যে সার্বিক ও ব্যাপক সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তা শত দিবসের সংস্কার নামে পরিচিত। এই সংস্কার প্রস্তাবগুলি অঙ্গীভূত ছিল আধুনিক স্কুল স্থাপন, পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন অতি রাষ্ট্রকতার অবসান ও বাণিজ্যের বিকাশ সেনা, নৌবাহিনী, পুলিশ ও ডাক ব্যবস্থার আধুনিকরণ ইত্যাদির মাধ্যমে চীনের উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করা হলেও নানা কারণে সংস্কারগুলি ব্যর্থতার পর্যবসিত হয়।


প্রথমত, সংস্কার আন্দোলনের ব্যর্থতা আলোচনা করতে গিয়ে জ্যা শ্যেনো বলেছেন, সংস্কার আন্দোলনের পিছনে জনসমর্থনের বিরাট অভাব ছিল বলেই সংস্কারপন্থীরা সম্রাট এর ওপর নির্ভর করতে তাদের সংস্কারগুলি বলবৎ করতে চেয়েছিলেন। অথচ সত্যি কারের সামাজিক ক্ষমতা নিহিত ছিল তাদের নিকৃষ্টতম শূদ্রদের হাতে।


দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিক জ্যাক গ্ৰে বলেছেন, একশত দিবস ব্যর্থ হয়েছিল কারণ চীনের জনমত তখনও ছিল অসংগঠিত ও অস্পষ্ট। যদিও রক্ষণশীলদের দমননীতির শিকার হবার ফলে সংস্কারপন্থী নেতারা জনসাধারণের সহানুভূতি লাভ করেছিলেন। তথাপি এই সংস্কার আন্দোলন সমাজের অভ্যন্তরে অত্যন্ত সীমিত সমর্থন লাভ করেছিল।


তৃতীয়ত, সংস্কারপন্থীরা চিহ্নে কৃষির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেননি। তারা তাদের কর্মসূচিতে কিসের উন্নতির প্রতি চূড়ান্ত অবহেলা প্রদর্শন করেছিলেন। চিনে কৃষি ক্ষেত্রে সংস্কার ছিল প্রয়োজনীয়। কারণ চিন ছিল কৃষি অর্থনীতি ভিত্তিক দেশ, কৃষি সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করলে জনগণের ব্যাপক সমর্থন লাভ করত। কিন্তু, তা না করায় শত দিবসের সংস্কার আন্দোলন ব্যর্থ হয়। তাছাড়া সংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে চীনে বিদেশী অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়নি বরং 1898 খ্রি: গ্রীষ্মকালে চীনে ব্যবচ্ছেদের জন্য সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। সংস্কারকরা একদিকে বিদেশীদের অনুপ্রবেশের বিরোধিতা করে আবার অন্যদিকে "পাশ্চাত্যকরণ নীতি" গ্রহণ করে। সংস্কারপন্থীদের এই আপাত অসংলগ্নতা শত দিবসের সংস্কার আন্দোলনের ব্যর্থতার পথকে প্রশস্ত করে।


চতুর্থত, রাজমাতা জুসির বিরোধিতা সংস্কারগুলির কার্যকারিতার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। জুসি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতালোভী। তিনি 1889 খ্রিষ্টাব্দে অবসর গ্রহণ করলেও প্রগতিশীল সংস্কার বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। জুসির প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্রাট ওয়াং-সুর সংস্কার গুলি প্রত্যাহার করা। তিনি কাং-ইউ-ওয়েইকে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। রাজমাথা জুসির প্রধান সমর্থক ছিলেন জুং-লু । জুসি ও জুং-লুর উদ্যোগে সম্রাটের পতন হয় এবং সেই সঙ্গে ব্যর্থ হয় সংস্কার মূলক বিধানগুলি।


পঞ্চমত, রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের ভূমিকা সংস্কারগুলির অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ভূষিত। একদিকে রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের কনফুসীয় মতবাদ এবং চিরাচরিত আদর্শের প্রতি অনুরাগ অপরদিকে পুরাতনের ধ্বংস স্তূপের উপর নতুন কাঠামো নির্মাণের প্রতি একতা উভয়ের পরস্পর বিরোধী মানসিকতা সংস্কার গুলিকে শেষ অব্দি ব্যর্থ করে তোলে।


ষষ্ঠত, সম্রাটের জুং-লু হত্যার ষড়যন্ত্র এবং ইউয়েন-সি-কাই এর বিশ্বাসঘাতকতা সংস্কারগুলির ব্যর্থতার মূল কারণের সঙ্গে যুক্ত না হলেও ব্যর্থতাকে যে তরম্বিত করে তাতে সন্দেহ নেই।


সপ্তমত, সংস্কারকদের অভিজ্ঞতা ও কৌশলের অভাব ছিল। সংস্কারের সময় কাং-ইউ-ওয়েই এর বয়স ছিল 40 বছর এবং ওয়াং-সুর বয়স ছিল 27 বছর। উভয়েরই পূর্বের কোন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ছিল না। সংস্কার আন্দোলনের পূর্বে 2 জনের কেউই বিদেশে যায়নি। তাই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল অস্পষ্ট। কাং-ইউ-ওয়েই আদর্শবাদী হলেও তার পরিকল্পনাতে বাস্তবতার অভাব ছিল। ফলে তিনি সম্রাট কে তার ক্ষমতার উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। সংস্কার প্রবর্তন করলে তা কনফুসিও সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী হবে একথা তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি। তাই একশত দিবসের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে ওঠে। বস্তুত সম্রাট ওয়াং-সুর ব্যর্থতা ও কাং-ইউ-ওয়েই এর ব্যর্থতাকে এর দিকে নির্দেশ করে।


আরো পড়ুন -1895-1913 সময়কালে চীনে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের প্রকৃতি আলোচনা কর?  CLICK HERE

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here