Click Below

Breaking

Know more

Search

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

1895-1913 সময়কালে চীনে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের প্রকৃতি আলোচনা কর? || B.A HISTORY HONOURS



প্রশ্ন, 

1895-1913 সময়কালে চীনে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের প্রকৃতি আলোচনা কর? 


অথবা 


সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বর্গরা চীনের উপর হস্তক্ষেপ করার ফলে চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি - কেমন প্রকৃতির হয়?

উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো চীনের উপর একের পর এক অসম চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছিল। পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সাথে নানা করনে চীন যুদ্ধে তাদের কাছে প্রতিবারই পরাজিত হয়েছে। কিন্তু চীনের বিশালতা চীনের দূরত্ব, বিভিন্ন পাশ্চাত্যের শক্তি বর্গের মধ্যে নানা বিষয়ে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিত থাকার ফলে এইসব সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলি চিনকে নিজেদের মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের মতো ভাগ করে নিতে পারেনি। তবে প্রত্যক্ষভাবে চীন দখল করতে না পারলেও তারা বিবিধ উপায়ে চীনকে আর্থিক দিক থেকে শোষণ করেছিল। আর্থিক অনুপ্রবেশ এর মাধ্যমে এই শোষণ আর্থিক সাম্রাজ্যবাদ নামে পরিচিত। দুরবল চীন এই আর্থিক শোষণের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।


প্রথম ও দ্বিতীয় ইঙ্গ চীন যুদ্ধে চীনের পরাজয়ের পর পাশ্চাত্য শক্তি সমূহ যখন চীনের বাণিজ্য শুল্ক শতকরা 5 টাকা হারে বেঁধে দিয়েছিল এবং যখন তারা পাশ্চাত্য দেশগুলোকে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত জাতির অধিকার দিতে বাধ্য হয়েছিল তখন থেকেই জিনের উপর সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় হয়ে উঠেছিল।


তাইপিং বিদ্রোহের সময় চৈনিক কর্তৃপক্ষ দক্ষিণের বন্দর গুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এই সময় থেকে দীর্ঘদিন বিদেশি শক্তিগুলোর প্রতিনিধিরা চীন সরকারের নামে বন্দরগুলো থেকে বাণিজ্য শুল্ক আদায় করেছিল। এর ফলে বাণিজ্য শুল্ক আদায়ের প্রত্যক্ষ কর্তৃত্ব চীনের হাত থেকে চলে যায়।


উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে পাশ্চাত্য শিল্প উন্নত দেশগুলির প্রচুর শিল্পজাত পণ্য চীনের বাজারে এসেছিল। পরিণতিতে চীনের কুটির শিল্প বিদেশি পণ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়েছিল এবং সেগুলো ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। লক্ষ লক্ষ কুটির শিল্পি তাদের জীবনধারণের একমাত্র উপায় হারিয়েছিল। তাছাড়াও যে পরিমাণ বিদেশি পণ্য চিনে এসেছিল তার তুলনায় বিদেশি চীনা পণ্য রপ্তানির হার অত্যন্ত কম হওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চিনা অসুবিধায় পড়েছিল। বিদেশি পণ্যের মূল্য মেটাতে চীন থেকে প্রচুর সোনা ও রুপা বিদেশে চলে গিয়েছিল। এতে চীনের আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়েছিল।


চীন জাপান যুদ্ধের সময় পর্যন্ত চীনের বিশেষ বৈদেশিক ঋণ ছিল না। কিন্তু এই যুদ্ধে চীন পরাজিত হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের অর্থ ক্ষতিপূরণ স্বরূপ জাপানকে দিতে রাজি হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের অর্থ মেটাবার জন্য চীন বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্র সমূহের বিবিধ আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিতে বাধ্য হয়েছিল। ফলে বিদেশি রাষ্ট্র সমূহ কর্তৃত্ব চীনে আর্থিক লুন্ঠনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল।


শিমনোসেকি চুক্তি স্বাক্ষরের পর চীন - ফ্রান্স ও রাশিয়ার কাছ থেকে ঋণ স্বরূপ চার কোটি ফ্রা গ্রহণ করেছিল। এই ঋণ প্রদানের সুযোগ গ্রহণ করে রাশিয়া চীনে শান্তিপূর্ণ আর্থিক অনুপ্রবেশের পথ অনুসরণের সুযোগ পেয়েছিল। 1895 সালের চীনে যৌথভাবে রুশ-চীনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়াও এক চুক্তির দ্বারা রাশিয়া মাঞ্চুরিয়া তে রেলপথ নির্মাণের সুযোগ পেয়েছিল। এই রেলপথের উভয় পাশের বিস্তৃত এলাকায় অবস্থিত সমস্ত খনি থেকে সম্পদ আহরণের অধিকারও রাশিয়া পেয়েছিল। স্বাভাবিক কারণে এইসব এলাকাতে রুশ কর্তৃত্ব কায়েম হয়েছিল।


ফ্রান্সও ঋণ প্রদানের বিনিময়ে কোয়াংটু ও কোয়াংশি প্রদেশে বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ সুবিধা অর্জন করেছিল। ফ্রান্স কোয়াংশি প্রদেশে রেলপথ নির্মাণের অধিকার পেয়েছিল। চীন একজন ফরাসি নাগরিক কে তাদের ডাক বিভাগের সর্বময় কর্তা হিসেবে নিযুক্ত করতে সম্মত হয়েছিল।


জাপানকে দেয় ক্ষতিপূরণের বাকি অর্থ মেটানোর জন্য চীন ইংল্যান্ড ও জার্মানির কাছে ঋণ গ্রহণে বাধ্য হয়েছিল। এর পরিবর্তে চীন ইয়াংসিক উপত্যকায় বিভিন্ন এলাকায় লবণ কর বাণিজ্য শুল্কের এক অংশের উপর বৃটেনের কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছিল। চীন সরকার সাংহাই থেকে নানকিং এবং পিকিং থেকে নিউ চ্যাং ওয়াং এলাকায় ব্রিটেনকে রেলপথ নির্মাণের অধিকার দিতে বাধ্য হয়েছিল। জার্মানিও শান্টুং উপদ্বীপে বিভিন্ন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করে।


এইভাবে চীন জাপান যুদ্ধের পরে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশ চীনের কাছ থেকে নানা আর্থিক সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে সমর্থ হয়েছিল। ক্রমে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা নিজেদের প্রভাবধিন এলাকা স্থাপন করেছিল। বক্সার অভ্যুত্থানের পর চীন আরো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চীনকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়নি। তারা অনুভব করেছিল তাদের পক্ষে বিশাল দেশ চীনকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করা সম্ভব নয়। তাই এই সময় থেকে আর্থিক সাম্রাজ্যবাদ প্রসারের চেষ্টা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।


রেলপথ কোনসেশন - চীনে আর্থিক সাম্রাজ্যবাদ সম্প্রসারণের এক প্রধান হাতিয়ার ছিল রেলপথ নির্মাণের অধিকার লাভ করা। বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিবর্গ যখন চীনকে ঋণ স্বরূপ অর্থ প্রদান করত, তখন তারা চীনের অভ্যন্তরে রেলপথ নির্মাণের সুযোগ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করত। এই রেলপথ নির্মাণের জন্য যে অর্থ দেয়া হতো বিদেশিরা তার জন্য সুদ হিসেবে প্রচুর অর্থ লাভ করত। এছাড়াও রেলপথ নির্মাণ পরিদর্শনের জন্য বহু বিদেশি উচ্চ বেতনের চাকরি পেতো। এ থেকে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করত। রেলপথের পার্শ্ববর্তী এলাকার ওপর বিদেশি রাষ্ট্রগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই এই সময় থেকে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণের জন্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছিল।


রুশ জাপান যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয়ের পর দক্ষিণ মাঞ্চুরিয়ার উপর জাপানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত বা স্বীকৃত পেয়েছিল। সে এই এলাকায় রেলপথ নির্মাণ, সড়ক পথ নির্মাণ এবং অন্যান্য বহু আর্থিক সুযোগ সুবিধা লাভ করেছিল। দক্ষিণ মাঞ্চুরিয়ান রেলপথের মাধ্যমে জাপানি পুঁজিপতিরা এই আর্থিক শোষণের সুযোগ পেয়েছিল।


রুশ জাপান যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয়ের পরও উত্তর মাঞ্চুরিয়ার ওপর রুশ প্রভাব তখনো বজায় ছিল। পূর্ব চীন রেলপথের মাধ্যমে এই এলাকায় পুরুষদের আর্থিক লুণ্ঠন অবাঁধে চলেছিল। মাঞ্চুরিয়া কার্যত রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে প্রায় বিভক্ত হয়ে গেলে আমেরিকান পুঁজিপতিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। উইলিয়াম টাফক আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি বাণিজ্য বিস্তার ও আর্থিক অনুপ্রবেশের মাধ্যমে চীনকে আর্থিক শোষণের কথা বলেন। তার এই নীতিতে ডলার ডিপ্লোমেসি বলা হয়।


• নকস-এর নিরপেক্ষ করণ নীতি - রেলপথ নির্মাণ এবং অন্যায় ভাবে চীনে আর্থিক অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য 1909 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট নকস্ ইংল্যান্ডের কাছে রেলপথ নিরপেক্ষ করনের জন্য দুটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাব দুটি হলো - 


1. মাঞ্চুরিয়ার উপর থেকে জাপান ও রাশিয়ার প্রভাব হ্রাসের জন্য এই এলাকার সমস্ত রেলপথ যাতে চীন সরকার কিনতে পারে সেজন্য চীনকে বিভিন্ন শক্তিকে একত্রে ঋণ স্বরূপ অর্থপ্রধান করতে বলা হয়েছিল। যতদিন পর্যন্ত চীন এই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে না পারবে ততদিন এই রেলপথের উপর এক বহুজাতীয় সংস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা বলা হয়েছিল।


2. যদি এইভাবে নিরপেক্ষ করন সম্ভব না হয় তাহলে ব্রিটেন ও আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র চীন চাও থেকে আইগুণ পর্যন্ত এক রেলপথ অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতায় নির্মাণ করবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নকসের এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে আমেরিকা তখনও চীনকে যৌথভাবে শোষণের কথা চিন্তা করেছিল।


ইংল্যান্ড অবশ্য এই প্রস্তাবে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি। এরপর নকস তার নিরপেক্ষকরন প্রস্তাব গ্রহনের জন্য চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান এবং রাশিয়ার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু জাপান এবং রাশিয়া পরস্পর আলোচনা করে এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে কিংবা মাঞ্চুরিয়াতে অন্য কাউকে অনুপ্রবেশে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। এরপর ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স ও তাদের অসম্মতি জানালে নকসের নিরপেক্ষ করন প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছিল।


এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া ও জাপান তাদের পূর্ব শত্রুতা ভুলে পরস্পরের কাছাকাছি এসেছিল। 1910 সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির মাধ্যমে এই দুটি দেশ তাদের নিজে নিজে স্বার্থ রক্ষার জন্য পরস্পরকে সাহায্য করতে সম্মত হয়েছিল।


• নকসের নিরপেক্ষ করন প্রস্তাব পর্যালোচনা করলে তৎকালীন চীনের অবস্থা সম্পর্কে কয়েকটি ধারণা জন্মায়। যথা- 

1. এ থেকে বোঝা যায় যে এই সময় বৈদেশিক শক্তি গুলি চিনে কোথায় রেলপথ নির্মিত হবে সেই সম্পর্কে চীনের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।

2. চীনে রেলপথ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন দেশ কিভাবে আর্থিক সাহায্য দেবে সেই সম্পর্কেও চীনের মতামত গ্রাহ্য করা হত না।

3. জাপান ও রাশিয়া মাঞ্চুরিয়ার প্রশ্নের চীনসহ কোনো দেশকেই সেখানে অনুপ্রবেশ করতে দিতে রাজি ছিল না।

4. সেই সময় ইংল্যান্ড টিমে খোলা দরজা নীতি বজায় রাখার পরিবর্তে সেখানে নিজে নিজে প্রভাব দিন এলাকা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বেশি আগ্রহী ছিল।


কনসোর্টিয়াম - নকসের নিরপেক্ষ করণ প্রস্তাব ব্যর্থ হলেও যৌথভাবে চীনকে আর্থিক শোষণের ব্যবস্থা অব্যাহত ছিল। 1910 সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র মিলে একটি চতুশক্তি কনসোর্টিয়াম গঠন করেছিল। এর মাধ্যমে চীনকে অর্থ ঋণদান ও আর্থিকভাবে শোষণের পথ খোলা রাখা হয়েছিল। এর কিছু কাল পর জাপান ও রাশিয়াও এতে যোগ দেওয়াতে কনসোর্টিয়াম ছয় শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। 1913 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর থেকে সরে গেলে এতে পাঁচটি দেশ থাকলো।


প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই কনসোর্টিয়াম ভেঙে গিয়েছিল। 1918 সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে আবার একটি চতুশক্তি এবং জাপান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে এককভাবে চীনকে শোষণ করার চেষ্টা করলে কনসোর্টিয়ামের নীতি ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। এইভাবে চীনকে যৌথভাবে শোষণের যে প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল তার অবসান ঘটেছিল। কিন্তু এরপরেও এককভাবে বিভিন্ন দেশ চিনে আর্থিক লুণ্ঠন চালিয়ে গিয়েছিল। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী দেশ চীনকে আর্থিক দিক দিয়ে অবাধে শোষণ করেছিল। চীন বিদেশি সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে অবাধ শোষণের মৃগয়াভূমি ছিল।


আরো পড়ুন - তাইপিং বিদ্রোহের প্রকৃতি আলোচনা কর?CLICK HERE

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here