Click Below

Breaking

Know more

Search

বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২

১৯৪৭ সালে দেশভাগ কেন হয়েছিল? || ভারত এবং পাকিস্তান || Upgrade Yourself




নমস্কার বন্ধুরা, 

স্বাধীনতা দিবস একদিকে ভারতের জন্য যেমন খুশির উৎসব পালন করার দিন ছিল, সেখানেই অন্যদিকে ভয়ংকর দেশভাগের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি হয় - ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু, এই দেশভাগ হয়েছিল কেন? এর পিছনে কি কারণ ছিল?  - চলুন এটা বোঝার চেষ্টা করি আজকের এই বিশেষ লেখার মাধ্যমে।


দেশভাগের বিষয়ে আপনি যদি প্রশ্ন করেন, তাহলে কিছু মানুষের কাছে অনেক মজাদার কাহিনী থাকে আপনাদের শোনানোর জন্য। ঠিক সেরকমই একটি খুবই বিখ্যাত কাহিনী রয়েছে - জহরলাল নেহেরু, মহম্মদ আলী জিন্নাহ ও এডয়িনা মাউন্টব্যাটেন কে নিয়ে। এরা তিনজন লন্ডনে একই কলেজে পড়েছিলেন। যার নাম ছিল- Harris College, তো গল্পটা অনেকটা এরকম যে এই তিনজনের মধ্যে Love triangle চলছিল। এই কারণে এডয়িনা মাউন্টব্যাটেন তার স্বামী লুইস মাউন্টব্যাটেনের কাছে অনুরোধ জানায় যে, পার্টিশন করে দাও দুটো দেশে যাতে নেহেরু ও জিন্নাহ দুজনেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। খুবই মজাদার একটি কাহিনী কিন্তু এটি বর্তমান সময়ের একটি whatsapp forward messages এর থেকে কম কিছু নয়। কারণ আপনি যদি একটু ভাবতে বসেন তাহলেই বুঝতে পারবেন যে কতটা অর্থহীন কাহিনী এটা।


জিন্নাহ নিজের আইন বিষয়ের (law) পড়াশোনা শুরু করেন 1892 সালে " Lincoln's inn " থেকে। তখন জহরলাল নেহেরু ছিল মাত্র তিন বছর বয়সের। আর এডয়িনা তো জন্মও নেয়নি তখন। এডয়িনার জন্ম হয় 1901 সালে। আর জহরলাল নেহেরু নিজের পড়াশোনা শুরু করেন - Trinity College, Cambridge থেকে 1907 সালে। এডয়িনা তখনও কলেজের গণ্ডি মারায়নি। এখন বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করার এরকম অনেক কাহিনী রয়েছে, এখন সেসব ছেড়ে চলুন আমরা দেখে নি - Documented History কি বলে। দেশভাগ হয়েছিল - 14th Aug 1947 সালে। কিন্তু, দেশ ভাগ করার যেই সিদ্ধান্তটি তা এই তারিখের থেকে অনেক মাস আগেই গ্ৰহন করা হয়েছিল। যেমন 18 জুলাই 1947 সালে "কিং অফ ব্রিটেন পার্লামেন্ট" দেশভাগের প্ল্যান করেছিল যখন তারা ভারতের স্বাধীনতা আইন কে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এর আগে 5ই জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট - ভারতের স্বাধীনতা আইন পাস করেছিল। কিন্তু, এরও আগে 3ই জুন 1947 সালে লুইস মাউন্টব্যাটেন দেশ ভাগ করার করার প্ল্যানটিকে রেডিওতে এনাউন্স করেন, একে 'মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান' বলা হয়ে থাকে। 


শুধুমাত্র দুজনই এমন নেতা ছিল যারা দেশভাগের বিপক্ষে ছিল। একজন ছিলেন - মহাত্মা গান্ধী ও অন্যজন ছিলেন খান আব্দুল গফফার খান। বাকি কংগ্রেস নেতা যেমন - সর্দার প্যাটেল ও জহরলাল নেহেরু 3ই জুনই দেশভাগের পরিকল্পনা মেনে নিয়েছিল।

" এমন কেউ নেই যে দেশ ভাগ চায়। আমার মনও খুব খারাপ। কিন্তু, কি করলে ঠিক হবে ! একটি ভাগ নাকি বহুভাগ। আমাদের সব সময় জানা উচিত সঠিক তথ্য বা প্রকৃত অবস্থা। কখনোই ভাবনার সঙ্গে বয়ে চলা উচিত নয়।" - খানিকটা এরকমই ছিল সর্দার প্যাটেলের বক্তব্য।


সরদার প্যাটেল যেই অবস্থার কথা বলছিলেন সেই অবস্থা আসলে অনেক বছর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। আর এটাই কারণ ছিল- 1st April 1947 সালে গান্ধীজী দেখা করেছিলেন মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে। গান্ধীজী গুরুতর ভাবে চেষ্টা করেছিলেন এই দেশভাগ থেকে এড়িয়ে যেতে। গান্ধীজী চেয়েছিলেন এই দেশভাগ যেন না হয়। এমনকি গান্ধীজী এত গুরুতর ভাবে চেষ্টা করেছিলেন এই দেশভাগ এড়িয়ে যেতে যে কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ পর্যন্ত দিতে চেয়েছিলেন আলী জিন্নাহ কে। মাউন্টব্যাটেন এরপর যান জহরলাল নেহেরুর কাছে ,তখন জহরলাল নেহেরু তার মতামত জানিয়ে বলেন- আমার এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, এই বিষয়টি আগেই একবার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে বলা হয়েছে, আর তিনি তাতে তার না বাচক মতামত জানিয়েছেন। আর আবারও যখন এই প্রধানমন্ত্রীর পদ দেওয়ার কথাটি জিন্নাহ কে বলা হয়, তখনও তিনি না করে দেন। তখন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন ,

" আজাদ ভারত নিয়ে গান্ধীজীর যা বিচার, তা আমাদের থেকে আলাদা। " 


এই সমস্ত বিষয়গুলি লুইস মাউন্টব্যাটেনের পক্ষে বোঝা খুবই কষ্টকর ছিল। কেননা তিনি 1947 সালের মার্চেই কেবল ভাইসরয় হয়েছিলেন। যে কারণেই সবকিছুই তার কাছে নতুন ছিল। যখন তিনি প্রথমবার ভারতে আসেন তখন ইউরোপের রাষ্ট্রপতি ' ক্লিমেন্ট এটলি ' তাকে বলেছিলেন, চেষ্টা করো দেশ ভাগকে এড়িয়ে যেতে। মাউন্টব্যাটেনের আগের ভাইসরয় ছিলেন - ওয়াভেল। চিনি 1943 সাল থেকে মার্চ 1947 সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বন্ধুরা আপনারা জেনে হয়তো অবাক হবেন ওয়াভেল আসলে ওই মানুষদের মধ্যে ছিল যারা দেশ ভাগকে এড়িয়ে যেতে চাইতেন। তিনি আসলে চাইতেন না যে, ভারতকে ভাগ করা হোক। তাঁর "সিমলা চুক্তি" এই বিষয়টির প্রমাণ হিসেবে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।


আমাদের সমস্যা আসলে শুরু হয় ওয়াভেলের আগে যে ভাইসরয় ছিলেন তাঁর থেকে। আর তার নাম ছিল - লর্ড লিনলিথগো। সমস্যার সূত্রপাতের গোড়ায়‌ ছিলেন তিনিই। এখন পুরো ঘটনাটিকে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার বদলে চলুন ঘটনাটিকে প্রথম থেকে শুরু করা যাক।


বহু মানুষের এমনটা মনে হয় যে, দেশভাগই আসল কারণ ছিল এমনটা মনে করার যে হিন্দু ও মুসলিম কখনো একসাথে ঐক্যবদ্ধ ভাবে থাকতে পারবে না। হিন্দু ও মুসলিমদের ঐতিহ্য এতটাই আলাদা ছিল যে তারা কখনোই ঐতিহাসিক ভাবে একত্রিত হয়ে থাকতে পারবেনা। যারা এটা মনে করেন তারা এটাও মনে করতেন - যে সমস্ত মুসলিম রাজা রয়েছেন তারা সবাই খারাপ ছিল। আর যে সমস্ত হিন্দুর রাজা ছিল তারা সবাই ভালো ছিল। এছাড়াও যে সমস্ত ঐতিহাসিক যুদ্ধ গুলি সংঘটিত হয়েছিল পূর্বে তা বেশিরভাগই ধর্মের কারণে হয়েছিল। এই সকল বিষয়গুলি সত্য নয় বন্ধুরা। কিন্তু, হ্যাঁ ! কিছু মুসলিম রাজা এমন ছিল যে তারা খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির ছিলেন। যেমন - মাহমুদ গজনভি, মুহাম্মদ ঘুরি ও বকতিয়ার খলজি ইত্যাদি। সেই সময় বেশিরভাগ যে সমস্ত লড়াই গুলি লড়াই হতো সেগুলো ধর্মের ভিত্তিতে নয় বরং নিজের শক্তির বা ক্ষমতার ক্ষুধার মেটানোর জন্য হত। সিংহাসন ও রাজ্যের লোভের জন্য এই রাজা-মহারাজারা একে অপরের সঙ্গে লড়াই করতেন। এই বিষয়টির প্রমাণ হিসেবে অনেক ঘটনাও রয়েছে। যেমন দেখা যায় অনেক মুসলিম রাজা অন্য মুসলিম রাজার সঙ্গে লড়াই করেছে। এখানে উদাহরণ হিসেবে আমরা এটা দেখে নিতে পারি যে, বাবর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে প্রথম পানিপথের যুদ্ধ হয়েছিল। এখানে দুই পক্ষই মুসলিম ছিল। ঠিক এরকমই "পাঠান যুদ্ধে" 1790 সালে হয়েছিল, যা মারাটা ও রাজপুতদের মধ্যে হয়েছিল। এরকম আরেকটি উদাহরণের লক্ষ্য করা যায়। 1576 সালে হলদিঘাটের যুদ্ধ মুঘল ও রাজপুতদের মধ্যে হয়েছিল। উপরে উপরে দেখলে এটি কে মনে হবে এটি একটি ধর্মীয় যুদ্ধ , যা হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে হয়েছিল। কিন্তু এখানে বোঝার বিষয়টি হলো - আকবরের সৈন্যবাহিনী জেনারেলের প্রধান ছিল - রাজা মান সিং, যিনি ছিলেন একজন হিন্দু। আর অন্যদিকে মহারানা প্রতাপের সৈন্য প্রধান ছিলেন - হাকিম খান সুর। এ থেকে এটা বোঝা যায় সকল যুদ্ধ হিন্দু মুসলিম পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন এটা নয়। এরই সাথে যেখানে একদিকে আমারা ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসী রাজা দেখেছি ঔরঙ্গজেবের মত, সেখানেই অন্যদিকে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ রাজাও লক্ষ্য করেছি। যেমন - আকবর, কৃষ্ণদেব রায়, শিবাজী ইত্যাদি। 


বন্ধুরা, ধরুন রাজা মহারাজের কথা পাশে রাখলাম, তাহলে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করলেই দেখা যায় - একজন সুফি কবি ছিলেন আমির খসরু, 1200 সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একবার হোলির সময়ে একটি লেখা লেখেন। বর্তমান সময়ে আজকের দিনে কোনো কবি যদি ওই ধরনের লেখার সহস দেখাতো তাহলে খুব সহজেই অন্যান্য কিছু মানুষের অনুভূতি ক্ষত হত। অন্যদিকে 1400 সালে দিকে কবিরের মত কিছু লোক ছিলেন যারা শুধুমাত্র হিন্দু এবং শুধুমাত্র মুসলিম ধর্ম নিয়ে গর্ব বোধ করতেন তাদের বিরোধী ছিলেন। তিনি লিখেছিলেন-


"কেউ যপে রহিম রহিম ,
কেউ জপে রাম ।।
" দাস কবির " - হলেন প্রেম পূজারী, 
দু'জনকেই বা দুই পক্ষকেই জানাই প্রণাম।"



আর গুরু নানক সবসময় সকল ধর্মের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। আকবর, জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের সময়ে মুঘলদের দরবারে শুধুমাত্র ঈদ-ই নয়, বরং হোলি পর্যন্ত উদযাপন করা হতো। হোলি উৎসবকে তারা " ঈদ-এ-গুলাবি " বলে ডাকতেন। আর সেখানে সকলেই হোলি খেলতে পারত। লালকেল্লার পিছনে একটি বড় মেলা হত। দীপাবলি কে মুঘলেরা - "জস্ন চেরেঙ্গা" বা খুশির মরশুম বলে ডাকতেন। এখন তুলসী দাসের সম্পর্কে ভাবুন যিনি রামচরিত মানস লিখেছিলেন। হিন্দু ধর্মের জন্য একটি অন্যতম লিখিত লেখা তিনি লিখেছিলেন। আর সব থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো তিনি এই লেখাটি লেখেন আকবরের শাসনকালে। শুধু তাই নয় আকবর রামায়ণ ও মহাভারত কে পার্শিয়ানে লেখানো করিয়েছিলেন। এছাড়াও "ওয়াজিদ আলী শাহ" ধর্মে একজন মুসলমান হওয়া ও সত্ত্বেও খুবই জনপ্রিয় হয়েছিলেন তার কৃষ্ণলীলা স্টেজ পারফর্মেন্সের জন্য। একদিন এমন হয়েছিল যে হোলির দিন পড়েছিল মহররমের দিনেতে, যেহেতু ঐদিনকে মহরম সেই অনুযায়ী হিন্দুরা ঐদিনকে হোলি উৎযাপন করবে না বলে ঠিক করে। যখন ওয়াজিদ আলী শাহ এই জিনিসটি জানতে পারেন তখন তিনি নিজেই বাইরে যান হোলি উদযাপন করতে। তো বন্ধুরা এই রকমই অনেক হিন্দু মুসলিম ঐক্যবদ্ধতার বহু উদাহরণ আপনারা পেয়ে যাবেন আমাদের ইতিহাসে। কিন্তু, তাদের সম্পর্কে কখনো কিছু বলা হয় না। কারণ আমাদের গন্যমান্য প্রত্যেকটি মিডিয়া চ্যানেল ও কিছু পলিটিক্যাল পার্টির ধান্দা এতেই চলে। তারা সব সময় এটাই চাই যে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিবাদ আরো বাড়ুক এবং তাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি ঘৃণা যতটা সম্ভব তা বাড়ানো যাক।


তবে যাই হোক না কেন আমাদের লেখার বিষয়ে আবার ফিরে আসা যাক কেননা এই সকল উদাহরণ গুলিকে যদি ব্যাখ্যা সহকারে বর্ণনা করতে হয় তাহলে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যাবে। এখন আমরা চলে যাব 1857 সালে। আরেকটি খুব বড় উদাহরণ ছিল হিন্দু মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধতার। যেখানে বহু হিন্দু ও মুসলমানরা রাজারা একত্রিত হয়ে যুদ্ধ লড়েছিলেন কোম্পানির বিরুদ্ধে। ঝাঁসির রানী লক্ষ্মী বাই, নানা সাহেব, তাতিয়া টোপি, বেগম হাসরত মহল, কুনওয়ার সিং, বক্ত খান - এই সকলেই বাহাদুর শাহজাহারকে নিজেদের কমান্ডার রূপে নিশ্চিত করেছিলেন। 1857 সালের যুদ্ধের পর ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে, আর ব্রিটিশ রাজত্বের সূচনা হয়। কিন্তু এই বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ টা খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তারা ভয় পাচ্ছিলেন এই কারণে যে, হিন্দু মুসলমানরা এরকম ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরো যদি বিদ্রোহ করে তাহলে ভারত থেকে তাদের রাজত্বের খুব তাড়াতাড়িই অবসান ঘটবে। এই কারণে ব্রিটিশরা তাদের বুদ্ধি খাটিয়ে দেশভাগের পরিকল্পনা করে।


ব্রিটিশদের দেশভাগের পরিকল্পনাটি ভালোভাবে বোঝার জন্য আমাদের - Indian National Congress এর ভিত্তিকে ভালোভাবে বুঝতে হবে। কংগ্রেসের স্থাপনা আসলে একটি ব্রিটিশ অফিসার এ.ও.হিউমের সাহায্যে করা হয়েছিল। তিনি একজন খুবই আধ্যাত্বিক মানুষ ছিলেন, তিনি 1857 সালের বিদ্রোহ নিয়ে একটি রিপোর্ট লিখেছিলেন। যাতে বলা হয়েছে - ব্রিটিশদের কারণেই 1857 সালের বিদ্রোহটি সংঘটিত হয়েছিল। কেননা ব্রিটিশ ইন্ডিয়ানদের উপর অত্যাচার করতে শুরু করেছিল। তিনি তার রিপোর্টে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আরো বহু কিছু লেখেন এবং পরবর্তীতে তিনি তার অফিসার পর থেকে পদত্যাগ নিয়ে নেন। এরপর তিনি তার একটি কবিতা সকল ভারতবাসীদের জাগ্রত করার চেষ্টা করেছিলেন ও সকল ভারতবাসীকে নিজের স্বাধীনতার দাবি জানাতে বলেছিলেন। Indian National Congress - একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসাবে পরিগণিত হয় ভারতীয় জাতীয়তাবাদ প্রকাশে। তৎকালীন সময় কংগ্রেসেরা দাবি জানায় ভারতীয়দের, বিশেষ করে শিক্ষিত ভারতীয়দের বেশি শেয়ার দেয়া হোক সরকারে। তখনকার সময়ে ব্রিটিশদের ভাইসরয় ছিল - লর্ড ডাফরিন। তিনি তার অ্যাপ্রুভাল দেন কংগ্রেসের বৈঠকের জন্য। শুরুর দিকে তার কংগ্রেসের থেকে কোনো রকম অসুবিধা হয় নি। কিন্তু কিছুকাল পরেই তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে কংগ্রেস যে সমস্ত কার্যকলাপ করছে তা থেকে ব্রিটিশ সরকারের ক্ষতি হতে পারে। তখন তিনি ভয় পেতে থাকেন। তিনি তখন কংগ্রেসের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান যে, দয়া করে নিজেদের বৈঠক ও সভা গুলিকে অরাজনৈতিক সামাজিকতায় পুনর্গঠন কর। কিন্তু, কংগ্রেস তা মেনে নেয় না। তখন ভাইসরয় ডাফরিন কংগ্রেসের ইনফ্লুয়েন্স কম করার জন্য ধ্বনী ব্যাক্তিদের কাছে যান ও তাদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান - নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতা INC থেকে কম করে নিতে। তিনি একটি নিয়ম বানান যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা কংগ্রেসের কোনো বৈঠক বা সভাতে যোগ দিতে পারবে না। এরপরে তিনি কিছু লয়াল উচ্চ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সাহায্য নেন‌। এর মধ্যে একজন ছিলেন সৈয়দ আহমেদ খান। আর অন্যজন ছিলেন শিব প্রসাদ। এই দুজনকে বলা হয় দেশে এন্টি কংগ্রেস মুভমেন্ট শুরু করার জন্য। 1887 সালের দিকে সৈয়দ আহমেদ খান নিজের বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন। সেই সময় কংগ্রেসের দাবি ছিল ICS পরীক্ষা ভারতে করানোর। ব্রিটিশ সরকার যে বাজেট তৈরি করে সেই বাজেটে ভারতীয়দেরও কিছু ছাড় থাকার দাবি জানায়। সৈয়দ আহমেদ খান পুরোপুরি এই সকল দাবিকে নাকজ করে দেয়। আর সকল জনগণকে বলেন তারা যেন কংগ্রেসের থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু, এসবও কোন বড় ব্যাপার নয়; আসল বড় ব্যাপারটা হলো এখান থেকেই সৈয়দ আহমেদ খান " Two nation theory " - কথা বলতে শুরু করেন। তিনি সকল জনগণদের বলেন মুসলমানরা খুবই বিপদের মুখে রয়েছে। যদি ব্রিটিশরা ছেড়ে চলে যায় তবে হিন্দুরা এসে মুসলিমদের উপর অত্যাচার শুরু করে দেবে। এছাড়াও ফ্রান্স ও পর্তুগিজের মত অন্যান্য দেশগুলি এসে ভারতীয়দের উপর অত্যাচার করবে। এই কারণে মুসলমানদের পক্ষে এটাই সবথেকে ভালো হবে যে তারা ব্রিটিশদের পক্ষ নিক ও ব্রিটিশ রুলস গুলিকে সাপোর্ট করুক।  


সৈয়দ আহমেদ খান মুসলমানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য একাধিক প্রয়াস করেছিলেন। 1875 সালে একাধিক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত কলেজ গুলির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কলেজ হল - আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি। কিন্তু, তা সত্ত্বেও তার দ্বারা করা এই ধরনের - " জনগণকে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার মত ভাষন" ও "এন্টি কংগ্রেস মুভমেন্টের" - ফলাফল শেষমেষ এটা এসে দাঁড়ায় যে, 1900 সালের শুরুর দিকে একটি "এলিট মুসলিম শ্রেণী" ছিল, তারা সৈয়দ আহমেদের এই Two nation theory - তে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল। আর এই কারণে 1906 সালে "All India Muslim league" - এর ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশরা সেই সময় ইচ্ছে করেই দেশের জনগণের মধ্যে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিল। সেই কারণেই ব্রিটিশরা "All India Muslim league" কে সাপোর্ট করে। All India Muslim league - ভাইসরয় ' মিন্টর ' কাছে 'সেপারেট ইলেক্ট্রোলেটস' দাবি করে শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য। কংগ্রেস পুরোপুরি এটার বিরোধিতা করে। আর সেই সময় কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। হ্যাঁ, সেই জিন্নাহ যে পরবর্তীতে দেশ ভাগ চেয়েছিলেন। কিন্তু , এই সময় পর্যন্ত তিনি কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন। কারণ তিনি মনে করতেন শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য 'সেপারেট ইলেক্ট্রোলেটস' ঘোষণা করলে তাহলে দেশকে দু ভাগে ভাগ করা হবে। এই সময়ে সরোজিনী নাইডুর মতো মানুষেরাও জিন্নাহকে হিন্দু মুসলমান ঐক্য বজায় রাখার অন্যতম একজন রক্ষাকর্তা হিসেবে মানতেন। কিন্তু, এর কিছুদিন পর থেকে জিন্নাহ তার মতামত পরিবর্তন করেন এবং তিনি আর কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু যতই যা হোক না কেন ব্রিটিশরা সবসময় নিজের স্বার্থই বুঝেছিল। ব্রিটিশরা লক্ষ্য করেছিল দেশের জনগণ কে আলাদা করা যাবে এবং দেশের জনগণের ঐক্য নষ্ট করা যাবে, যদি হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেওয়া যায়। এই কারণেই ব্রিটিশরা All India Muslim league এর 'সেপারেট ইলেক্ট্রোলেটস' এর দাবি মেনে নেন। মুসলমানদের 'সেপারেট ইলেক্ট্রোলেটস' দেবার মানে হল- কিছু এমন সিট থাকবে যেখানে শুধুমাত্র মুসলমান ক্যান্ডিডেটরাই দাঁড়াতে পারবে ভোটের জন্য। আর শুধুমাত্র মুসলিম ভোটাররাই তাদের জন্য ভোট দিতে পারবে। ব্রিটিশ রাজত্বকালে 1909 সালে "Indian counselling act"- দ্বারা এটি করা হয়। একে আবার "Morley Mento reforms"- বলেও ডাকা হয়। কিন্তু, ব্রিটিশরা এতেও থামেননি। এরপর 1919 সালের "Indian counselling act"- পাস করা হয় , যেখানে শিখ এবং অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছিল। এর ফলে ব্রিটিশদের আবারও দেশের জনগণের মধ্যে ভাগাভাগির নীতি চালু ছিল। আর এর ফলে আরো দ্বন্দ্বকলহ বাড়তে থাকে একটি ধর্মের আরেকটি ধর্মের উপর। আর এই সমস্ত কিছুর জন্য যা হয় তার ফলে - হিন্দুদের একটি ছোট শ্রেণীর মানুষেরা নিজেদেরকে খুবই নিরীহ বলে মনে করতে থাকে। তাদের এমনটা মনে হতে থাকল যে, আমাদের জন্য তো কিছুই হচ্ছে না এখানে। আর এর ফলেই "all India Muslim league" এর মতো একটি "হিন্দু লীগেরও" সূচনা হয়। আর এর নাম দেওয়া হয় - "Akhil Bhartiya Hindu mahasabha", এর সূচনা করেছিলেন - মদনমোহন মালাভিয়া। 


1925 সালে এরপর আবার কেশব বলিলাম নামে একজন মানুষ আরেকটি হিন্দু সংস্থার সূচনা করেন। আর এর নাম রাখা হয় - "রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ"; অর্থাৎ RSS . যেখানে একদিকে কিছু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের এমনটা মনে হচ্ছিল যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে, ঠিক সেরকমই কিছু সংখ্যক হিন্দু মানুষদেরও এমনটা মনে হতে চলেছিল যে তারা খুবই সংকটের মধ্যে রয়েছে। পিছনে একটি বড় কারণ ছিল ব্রিটিশরা তাদের স্কুলে যে সমস্ত ইতিহাস পড়াতো সেই ইতিহাসের বাস্তব কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ব্রিটিশরা মুসলিমদের এমন টা দেখাতো যে, হিন্দুরা যারা রয়েছে তারা মুসলমান রাজা মহারাজাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছিল। 


1909 সালে ইন্ডিয়ান মেডিকেল সার্ভিস অফিসার  U.N Mukherjee কিছু চিঠি লেখেন একটি কলকাতার সংবাদপত্রে। এই চিঠিগুলির হেডলাইন দেওয়া হয় - Hindu's a Dying risk , এই চিঠি গুলিতে তিনি নিজের ভয় গুলি সম্পর্কে লেখেন যে, তৎকালীন সময়ে হিন্দুরা কিরূপ পরিস্থিতিতে রয়েছে। তিনি তার চিঠিতে এও উল্লেখ করেন যে, মুসলমানদের যে পপুলেশন আছে তা কত তাড়াতাড়ি বাড়ছিল এবং কিছু সময় পরে হিন্দুদের পপুলেশন কতটা কম হয়ে যাবে। তার ভয় ছিল যে মুসলমানরা পুরো কব্জা করে নেবে পুরো দেশের উপর। অন্যদিকে কিছু মুসলমানদেরও ভয় হয়েছিল যে, হিন্দুরা কব্জা করে নেবে পুরো দেশের উপর। আর এটাই কারণ ছিল বন্ধুরা যে একটি 'ভয়' , আসতে চলা কিছু সালের মধ্যে নিজের অধিকারের বদলে যায়। যার ফলে 1920 সালে ধর্মীয় অধিকার নিয়ে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব কলহ দেখা যায় হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে। এই অধিকার গুলি আগে এতটা কমন ছিল না। 1920 সালই সেই সময় ছিল যখন এই অধিকার গুলি এতো বিপুল পরিমাণে মানুষ চাইতে থাকে। 


আর এখানে সাভারকার ও হিন্দুত্বের কি ভূমিকা ছিল, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কেন পরবর্তীতে গিয়ে নিজের মনোভাব পরিবর্তন করে নেন - যার ফলে দেশভাগ হয় , এই সম্পর্কিত একটি আলোচনা আমরা অন্য একটা লেখাতে আপনাদের বিস্তারিত জানাবো।  আজকের মত লেখাটি এখানেই শেষ করলাম । আশা করি আজকের এই লেখাটি পড়ে আপনি এটা বুঝতে পেরেছেন যে, দেশভাগের পিছনে লুকিয়ে থাকা কারণগুলি কি ছিল? - যার ফলে দেশভাগের এই বিষয়টি ধীরে ধীরে সামনে এসেছিল। কোথা থেকে আর কিভাবে এই পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সূচনা হলো -  এই সমস্ত কিছুই আপনি এই লেখাটি পড়ে হয়তো বুঝতে পেরেছেন। পরবর্তী কোনো লেখাতে এর পর থেকে শুরু করে বিস্তারিত সবকিছু জানানো যাবে।  


 নমস্কার, ধন্যবাদ।। আজ এখানেই শেষ করলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here