Click Below

Breaking

Know more

Search

বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

টীকা লেখ - আশিয়ান (ASEAN) || দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আসিয়ানের (ASEAN) লক্ষ্য ও কার্যাবলী লেখ? || History

 



প্রশ্ন, 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আশিয়ান সম্পর্কে টীকা লেখ?


অথবা 


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আসিয়ানের (ASEAN) লক্ষ্য ও কার্যাবলী লেখ? 


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী অধ্যায়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি যে পরিবর্তন এসেছিল তাতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আসিয়ান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পূর্বে কতগুলো অন্তরাষ্ট্রীয় সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছিল। যেমন- SEATO (সিয়োটো) , ASA, Maphilindo প্রভৃতি। 1954 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রয়োজনে SEATO গঠন করে। তবে এই রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াও একাধিক রাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক সংগঠন A.S.A গঠন করে। মালয়, ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়া - ত্রয়ী রাষ্ট্রজোট 1963 খ্রিস্টাব্দে Maphilindo দল গড়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত দুই সংস্থা একত্রিত হয়ে 1967 খ্রিস্টাব্দে 8ই আগস্টে প্রতিষ্ঠা করেছিল অসামরিক অন্তরাষ্ট্রীয় সংগঠন - "অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস"।


লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:- আশিয়ান ব্যাংকক ঘোষণায় তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়- 

(i) সদস্য রাষ্ট্র সমূহের অর্থনৈতিক বিকাশ সামাজিক প্রগতি ও সংস্কৃতি উন্নয়নের জন্য আশিয়ান কাজ করবে।

(ii) বিশ্ব বাণিজ্য বাজারের সাম্য রাষ্ট্রগুলি যাতে দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

(iii) একই সঙ্গে একটি যৌথ ও জাতীয় চেতনার, জাতীয় বিকাশের উপর জোর দেওয়া হবে। সেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে থাকবে সমতা, জাতীয় উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সংঘবদ্ধতা।

(iv) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় গঠিত সমস্ত বিদেশি সামরিক ঘাঁটিগুলি নিতান্ত অস্থায়ী এবং যাদের অস্তিত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের অনুমতি সাপেক্ষ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এগুলিকে জাতীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় উন্নতির ব্যাপারে ব্যবহার করা চলবে না।


কার্যাবলী:- আশিয়ানের প্রথম ৬-৭ বছরের কার্যক্রম ছিল খুবই মন্থর। অধ্যাপক ভট্টাচার্য বলেছেন, প্রতিষ্ঠার প্রথম ৯ বছর ধরে আসিয়ান কাজ করেছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিদেশ মন্ত্রীদের একটি সদস্য সংগঠন হিসেবে। ভিয়েতনাম থেকে 1975 সালে আমেরিকা হাত গুটিয়ে নেওয়ায় পর এবং কম্বোডিয়া ও লাওস অ কমিউনিস্ট সরকারের পতনের সাথে সাথে আশিয়ান দেশগুলি আশিয়ান সংগঠনটিকে শক্তিশালী করে তোলার মাধ্যমে তাদের অন্তরাষ্ট্রীয় ঐক্য সংহতি বাড়াতে বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছিল। এই উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটে ইন্দোনেশিয়ার বালি শহরে অনুষ্ঠিত আশিয়ানের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। এই শীর্ষ সম্মেলনে ডিক্লারেশন অফ এশিয়ান কনকোর্ড গৃহত হয়েছিল। যার মধ্যে সংগঠনের সাক্ষ্য ও কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে উল্লেখিত হয়েছে। বলা হয়েছিল যে, এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হল সদস্য রাষ্ট্রগুলির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক প্রগতি ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি সুনিশ্চিত করা এবং সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তি ও সুস্থিত বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সকল বিরধের মীমাংসা শান্তিপূর্ণ পদ্ধতির মাধ্যমে করা হবে। সর্বোপরি অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলির ক্ষেত্রে একটি সদস্যরাষ্ট্র অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলির অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।


• 1984 সালে প্রাকৃতিক তেল সমৃদ্ধ ব্রুনেই ASEAN-এর সদস্য হয়। ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান এবং 1980 এর দশকেই সিঙ্গাপুরের মত কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের অভূতপূর্ব উন্থান ASEAN এর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যুগিয়ে ছিল। 1997 সালে ASEAN এর লাওস, কম্বোডিয়া, মায়ানমার যোগদান করেন। এই পরিস্থিতিতে ASEAN এর অভ্যুত্থান এই প্রশ্নের চাপা সংকট দেখা যায়।


• ASEAN এর ফলে কর বৃদ্ধির সাথে সাথে তার কাজের ক্ষেত্রেও পরিধি বাড়তে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে উত্তেজনা মুক্ত করার লক্ষ্যে ASEAN নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিপক্ষে দ্বি-পক্ষিক বিবাদ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সেগুলি নিষ্পত্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই বিষয়টি সম্পর্কে নজরদারি করার জন্য একটি হাই কাউন্সিল গঠিত হয়। শান্তি স্থাপনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক লক্ষ্যেও ASEAN অবিচল ছিল। ASEAN দেশগুলির রাষ্ট্র প্রধানরা যেমন সময়ে সময়ে মিলিত হতেন তেমনি নানাবিধ আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশ সমূহের অর্থ ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রীরাও নিয়মিত বৈঠকে বসতেন। পারস্পারিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে খাদ্যশস্য, শক্তি বন্টন ও বিপণনের উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। জোর দেওয়া হয় বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার গঠন এবং আশিয়ান বহির্ভূত এলাকায় নতুন করে বাজার দখলের উপর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের স্বার্থে সমগ্র অঞ্চলটিকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত রাখার আহ্বান করা হয়। এই সমস্ত উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে সংগঠনের কাঠামো রোধ করা হয়। গঠিত হয় পরিকল্পনা বিষয়ক ASEAN, উপদেষ্টা মন্ডলী অর্থ ও ব্যাংকের ব্যবস্থা সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা ভান্ডার, যৌথ উদ্যোগ প্রকল্প প্রভৃতি। ASEAN এর উদ্দেশ্য আলোচনা প্রসঙ্গে পিটার ক্যালডো কুরসী বলেছেন, ASEAN দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্রতা, রোগ, মহামারী ও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছে। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে উন্নত করেছে এবং সাথে সাথে বিদেশি শক্তি গুলিকে দূরে সরিয়ে রাখতে সফল হয়েছে। ASEAN তার চল্লিশ বছরের ইতিহাসে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। স্বাক্ষরিত হয়েছে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তি। ইতিপূর্বে সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অভিন্ন বাজার তৈরীর প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচিত হয়েছে যেটি সম্ভবত 2015 সালের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশা করেছিল। এছাড়া নিঃশুল্ক বাণিজ্য চালাতে এই সংগঠনটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


আরো পড়ুন:- বিশ্বে মার্কিন আধিপত্যের ভূমিকা আলোচনা কর? মার্কিন পুলিশ ব্যবস্থার বিবরণ দাও? CLICK HERE

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here