Click Below

Breaking

Know more

Search

বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১

পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধের তুলনামূলক আলোচনা || উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস

উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস

৮ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

তৃতীয় অধ্যায় : ঔপনিবেশিক আধিপত্যের প্রকৃতি : নিয়মিত ও অনিয়মিত সাম্রাজ্য



 প্রশ্ন :পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো?

উত্তর:

সূচনা : ভারতবর্ষে ইংরেজ আধিপত্য লাভের প্রথম পর্যায়ে যে দুটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তা হল ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের বক্সারের যুদ্ধ। ইতিহাসে দুটি যুদ্ধই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই দুটি যুদ্ধের মধ্যে কোন যুদ্ধটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। একটি তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। সবার প্রথমে আমরা দেখে নেবো পলাশীর যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে। এবং তারপর দেখব বক্সারের যুদ্ধের গুরুত্ব সম্পর্কে।

পলাশীর যুদ্ধ :

১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজদের যে যুদ্ধ হয়েছিল তা ভারতের ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধের পরাজয়ের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রায় ২০০ বছর অস্তবিত হয়। এই যুদ্ধের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূর প্রসারী এই যুদ্ধের ফলাফল নিম্নরূপ।


খণ্ডযুদ্ধ→ পলাশীর যুদ্ধের হতাহতের সংখ্যা ও ব্যাপকতার  দিক দিয়ে এটি একটি ছিল খন্ডযুদ্ধ মাত্র। এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ৫০০ জন ও ইংরেজদের পক্ষে মাত্র ২২ জন সেনার মৃত্যু হয়। ঐতিহাসিক ন্যালেসন বলেছেন যে "পলাশী যদিও নির্ণয়ক যুদ্ধ,তথাকি কখনো বৃহৎ যুদ্ধরূপে বিবেচিত হতে পারে না"।


স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান→ পলাশীর যুদ্ধে হেরে গিয়ে ভারতে সর্বাধিক অঞ্চল বিদেশীরা দখল করে নেয় এবং সেখানে ইংরেজরা প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হয়। ইংরেজরা নিজের হাতের পুতুল হিসেবে মীরজাফরকে সিংহাসনে বসায়।নিজেরা সিংহাসনের পশ্চাদে প্রকৃত শক্তিতে পরিণত হয়।


কোম্পানির সাম্রাজ্য বিস্তার→ পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভ করে ইংরেজ কোম্পানি ভারতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এই যুদ্ধের পর থেকে বাংলার সম্পদ ব্যবহার করে ইংরেজরা ভারতে অন্যান্য অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের প্রসার ঘটায়।

পলাশীর লুণ্ঠন→  পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নতুন নবাব ইংরেজ কোম্পানি ও কর্মচারীদের প্রচুর অর্থ পুরস্কার দিতে বাধ্য হয়। যুদ্ধের পরবর্তীকালে কোম্পানি ছলে-বলে-কৌশলে বাংলা থেকে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করে তা নিজেদের দেশে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে বাংলার অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে যা পলাশীর লুণ্ঠন পরিচিত।


নতুন যুগের সূচনা→   পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজরা এদেশে সমাজ-সভ্যতায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করায় প্রাশ্চাত্য শিক্ষা ও ভাবধারার অনুপ্রবেশ ঘটে। নবজাগরণের ফলে মধ্যযুগের অবসান ঘটে। ও আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে।


বক্সারের যুদ্ধ:


১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে ৮/২২ অক্টোবর মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম,অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা,এবং বাংলার নবাব মীর কাসিম এর মিলিত বাহিনীর সঙ্গে বক্সসার প্রান্তরে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তা বক্সার যুদ্ধ নামে পরিচিত। ভারতের ইতিহাসে বক্সারের যুদ্ধ ছিল এক অন্যতম নির্ণয়ক যুদ্ধ এর ফলাফল নিম্নরূপ।


(১) ব্রিটিশ প্রভুত্ব→ পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভ করে বাংলা তথা ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সম্ভাবনা দেখা দেয় তা বক্সার যুদ্ধে জয় লাভ করে তাকে বাস্তবায়িত করে।


(২) ভারতীয় শাসকদের অযোগ্যতা→ পলাশীর যুদ্ধে শুধুমাত্র বাংলার নবাব পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব,অযোধ্যার নবাব,ও মোগল সম্রাট একসাথে পরাজিত হন। এই পরাজয় বাংলা তথা ভারতের শাসক অযোগ্যতা প্রমাণ করে।


(৩) নবাবের ক্ষমতা হ্রাস→ বক্সার যুদ্ধের পরে অযোধ্যাও বাংলার নবাবের ক্ষমতা কোম্পানি চূড়ান্ত হ্রাস করে। অযোধ্যার নবাব কোম্পানি নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ে। বাংলা নবাব কোম্পানির ভিত্তিভোগি নবাবে পরিণত হয়।


(৪) কোম্পানির দেওয়ানি লাভ→ বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর ইংরেজরা বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বাংলা,বিহার,উড়িষ্যা দেওয়ানি লাভ করে। ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে এর ফলে কোম্পানি সেখানে ব্যাবসা ও বানিজ্য রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পান।


(৫) শিল্প বাণিজ্য এর উপর কোম্পানি কৃতিত্ব→ বক্সারের যুদ্ধের পর বাংলার কুটির শিল্প ও বাঙালির ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস শাসন করে। ব্রিটিশরা একচেটিয়াভাবে শিল্প-বাণিজ্যে উপর নিজের কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠা করে।


মূল্যায়ন :-পরিশেষে বলা যায় পলাশীর যুদ্ধ যদিও নিঃসন্দেহে একটি নির্ণায়ক যুদ্ধ, তথাপি কখোনই গৃহযুদ্ধ রূপে বিবেচিত হতে পারে না। কিন্তু বক্সারের যুদ্ধ ছিল এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। তবে ভারতের ইতিহাসে দুটি যুদ্ধই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্র এর মতে " পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা যে ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে তুলেছিল, বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমে সেটি আরো সুদৃঢ় প্রাপ্ত হয়েছিল।"


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here