Click Below

Breaking

Know more

Search

মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০

মাধ্যমিক ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর || সংস্কার বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

 মাধ্যমিক ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায়

সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

অতি গুরুত্বপূর্ণ 2 নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

Madhyamik History suggestions




1. শিক্ষাক্ষেত্রে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে সনদ এর গুরুত্ব কী ছিল?

Ans. শিক্ষাক্ষেত্রে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে সনদের গুরুত্ব ছিল, এর দ্বারা - ১.কম্পানি প্রতিবছর এক লক্ষ টাকা ভারতীয় শিক্ষার জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয়।

২. ভারতে জন শিক্ষার নীতি নির্ধারণের উদ্দেশ্য ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দের জনশিক্ষা কমিটি বা কমিটি অব পাবলিক ইন্সট্রাকশন গঠিত হয়।


2. সতীদাহ প্রথা কি? এটি কে কবে নিষিদ্ধ করেন?

Ans.  ঊনিশ শতকের গোড়াতেও ভারতীয় হিন্দু সমাজে প্রচলিত প্রথা অনুসারে স্বামীর মৃত্যুর পর জ্বলন্ত চিতায় তার বিধবা স্ত্রীকে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা হতো। এই মধ্যযুগীয় নিষ্ঠুর বর্বর প্রথা সতীদাহ প্রথা বা সহমরণ নামে পরিচিত।

ভারতের বড়লাট লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক রাজা রামমোহন রায়ের সহায়তায় ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ১৭ নং রেগুলেশন আইন পাস করে এই সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন।


3. হাজী মহম্মদ মহসিন কে ছিলেন?

Ans.হাজী মহম্মদ মহসীন ছিলেন একজন শিক্ষাব্রতী সমাজসেবক ও দানবীর। ঊনিশ শতকে বাংলার মুসলিম সমাজে শিক্ষার প্রসার, জনকল্যাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।


4. নব্য বেদান্ত বাদ কি?

Ans. স্বামী বিবেকানন্দ প্রাচীন অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের নিজস্ব ব্যাখ্যা দেন যা নব্য বেদান্ত বাদ নামে পরিচিত। এই ব্যাখ্যায় তিনি বলেন যে সর্বত্রই ব্রহ্মের উপস্থিতি রয়েছে। আপামর মানুষের সেবা করাই হল ব্রহ্মের সেবা করা।


5. নব্য বঙ্গ গোষ্ঠী কাদের বলা হয়?

Ans. ঊনিশশতকের প্রথমার্ধে হিন্দু কলেজের অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর নেতৃত্বে তার অনুগামী একদল যুবক বাংলার সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে এক চরমপন্থী আন্দোলনের সূচনা করেন। ডিরোজিও ও তার অনুগামী ছাত্র মন্ডলী নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী নামে পরিচিত এবং তাদের আন্দোলনকে নব্যবঙ্গ আন্দোলন বলা হয়।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রসিক কৃষ্ণ মল্লিক, প্যারীচাঁদ মিত্র, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় প্রমূখ। 


6. “শ্রীরামপুর ত্রয়ী” নামে কারা কেন পরিচিত? ছিলেন

Ans: উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড এই তিন খ্রিস্টান মিশনারিকে একত্রে ” শ্রীরামপুর ত্রয়ী ” বলা হয় |শ্রীরামপুর কলেজ কে কেন্দ্র করে এই তিনজন পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার করেছিলেন বলে এদেরকে একত্রে শ্রীরামপুর ত্রয়ী বলা হয়।


7.ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমদিকে কেন ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নেয়নি?

Ans: কারণ, তারা মনে করত যে,ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য ব্রিটিশদের অর্থব্যয়ের কোনো প্রয়োজন নেই |ধর্মভিত্তিক ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় আঘাত করলে তারা ক্ষুব্ধ হবে |তাছাড়া তাদের মনে ভয় ছিল, ভারতীয়রা পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হলে ভবিষ্যতে তাদের মনে স্বাধীনতা লাভের ইচ্ছা জন্মাবে |


8.প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব বলতে কী বোঝ?

Ans: 1813 খ্রিস্টাব্দে সনদ আইনের দ্বারা ব্রিটিশ সরকার ভারতে জনশিক্ষার জন্য প্রতি বছর এক লক্ষ টাকা ব্যয় করার কথা ঘোষণা করে |সেই মোতাবেক জনশিক্ষা নীতি নির্ধারণের উদ্দেশ্যে 1823 খ্রিস্টাব্দে জনশিক্ষা কমিটি গঠিত হয় |কিন্তু প্রাচ্য না পাশ্চাত্য শিক্ষার জন্য এই অর্থ ব্যয় হবে তা নিয়ে জনশিক্ষা কমিটির সদস্যরা দুটি দলে বিভক্ত হলে যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, তা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব নামে পরিচিত |


9.প্রাচ্যবাদী বা ওরিয়েন্টালিস্ট কাদের বলা হয়?

Ans: 1813 খ্রিস্টাব্দে সনদ আইনে ভারতীয় জনশিক্ষার জন্য ব্রিটিশ সরকারের বরাদ্দ বার্ষিক এক লক্ষ টাকা যারা দেশীয় ভাষা,সাহিত্য – সংস্কৃতি প্রভৃতি খাতে ব্যয় করতে চেয়েছিলেন তাদের প্রাচ্যবাদী বলা হয় |কোলব্রুক, উইলসন, এইচ. টি. প্রিন্সেপ প্রমুখরা ছিলেন এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য |


10.পাশ্চাত্যবাদী বা অ্যাংলিসিস্ট কাদের বলা হয়?

Ans: 1813 খ্রিস্টাব্দে সনদ আইনে ভারতীয় জনশিক্ষার জন্য ব্রিটিশ সরকারের বরাদ্দ বার্ষিক এক লক্ষ টাকা যারা পাশ্চাত্যের সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, ইংরেজি প্রভৃতি শিক্ষার খাতে ব্যয় করতে চেয়েছিলেন তাদের পাশ্চাত্যবাদী বলা হয় |আলেকজান্ডার ডাফ, কোলভিন, সন্ডার্স, মেকলে প্রমুখরা ছিলেন এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য |


11.ক্রমনিম্ন পরিস্রুত নীতি বা চুঁইয়ে পড়া নীতি বা Downward Filtration Theory কী?

Ans: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে তাঁর জনশিক্ষা কমিটির সভাপতি টমাস ব্যাবিংটন মেকলে এক প্রস্তাবে বলেন যে, জল যেভাবে উঁচু থেকে নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক সেইভাবে ভারতে উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটলে তা ক্রমশ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে |মেকলের এই নীতি ক্রমনিম্ন পরিস্রুত নীতি বা চুঁইয়ে পড়া নীতি নামে পরিচিত |


12. উডের ডেসপ্যাচ কী?

Ans: বোর্ড অফ কন্ট্রোল সভাপতি চার্লস উড 1854খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা বিষয়ক একটি নির্দেশনামা প্রকাশ করেন উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত। এতে যেসব সুপারিশ করা হয় তা হল -

১. একটি পৃথক শিক্ষা দপ্তর গঠন, ২.কলকাতা, বোম্বাই মাদ্রাজে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ৩. উচ্চশিক্ষায়় ইংরেজি ভাষার গুরুত্বব বৃদ্ধি ৪. শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদি


13.তিন আইন কী?

Ans: কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ব্রাহ্ম আন্দোলনের প্রভাবে ব্রিটিশ সরকার 1872 খ্রিস্টাব্দে সংস্কারমূলক তিন আইন পাস করে |এই আইন দ্বারা ভারতীয় হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হয় এবং অসবর্ণ বিবাহ আইনানুগ হয়|এটি তিন আইন নামে পরিচিত |


14.ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন?

Ans: কেশবচন্দ্র সেন ব্রাহ্মসমাজের নীতি লঙ্ঘন করে 1878 খ্রিস্টাব্দে তাঁর 14 বছর বয়সি নাবালিকা কন্যা সুনীতি দেবীর সঙ্গে কোচবিহারের নাবালক রাজপুত্র নৃপেন্দ্রনারায়ণের বিবাহ দিলে তরুণ ব্রাহ্মনেতারা ক্ষুব্ধ হন|ফলস্বরূপ 1878 খ্রিস্টাব্দের 15 মে শিবনাথ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু প্রমুখরা মিলে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন |এইভাবে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হয় |


15.বাংলার নবজাগরণকে কে, কেন ” এলিটিস্ট আন্দোলন ” বলেছেন?

Ans: •• বাংলার নবজাগরণকে ড. অনিল শীল এলিটিস্ট আন্দোলন বলেছেন |

•• কারণ, তাঁর মতে এই নবজাগরণ মূলত শহুরে উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত মানুষদের মধ্যেই মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল|গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষদের সঙ্গে নবজাগরণের কোনো সম্পর্ক ছিল না |


16.কাকে এবং কেন কাঙাল হরিনাথ বলা হত?

Ans: •• গ্রামবার্ত্তা পত্রিকার সম্পাদক হরিনাথ মজুমদার, কাঙাল হরিনাথ নামে পরিচিত ছিলেন |

•• শৈশবেই তিনি পিতামাতাকে হারিয়ে অনাথ হয়ে যান এবং দারিদ্র কখনই তাঁকে ছেড়ে যায় নি|তাই তিনি কাঙাল হরিনাথ নামে পরিচিত ছিলেন |


17.পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে কোম্পানির উদ্দেশ্য কী ছিল?

Ans: পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল – কোম্পানির প্রশাসন পরিচালনার উদ্দেশ্যে একদল উপযুক্ত কেরানি তৈরি করা|এছাড়া পাশ্চাত্য মানসিকতাযুক্ত নাগরিক তৈরি করা,যাতে ঐ শিক্ষিত সমাজ ব্রিটিশ শাসনের অনুগত হয় |


18.ব্রাহ্মসমাজের যেকোনো দুটি সমাজ সংস্কারমূলক কাজের উল্লেখ করো |

Ans: 1.বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করা |

2.নারী শিক্ষার বিস্তার ও পর্দা প্রথার বিলুপ্তি |


19.ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?

Ans: ইংল্যান্ড থেকে ভারতে আগত সিভিলিয়ান ও উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের ভারতীয় ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আইনকানুন প্রভৃতি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য 1800 খ্রি: লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন|এই কারণে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হত|


20.প্রথম মহিলা হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন কারা এবং কবে?

Ans: 1882 খ্রিস্টাব্দে কাদম্বিনী গাঙ্গুলি ও চন্দ্রমুখী বসু |


21.কী উদ্দেশ্যে সাধারণ জনশিক্ষা কমিটি বা জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইন্সট্রাকশন(GCPI) গঠিত হয়?

Ans: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 1813 খ্রিস্টাব্দে চার্টার আইন পাস করে|এই আইনে বলা হয় যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতি বছর ভারতীয় জনশিক্ষার জন্য 1 লক্ষ টাকা ব্যয় করবে|সেই অনুসারে জনশিক্ষা নীতি নির্ধারণের উদ্দেশ্যে 1823 খ্রিস্টাব্দে সাধারণ জনশিক্ষা কমিটি গঠিত হয় |


22.হান্টার কমিশন(1882খ্রি:)গঠিত হয়েছিল কেন?

Ans: উডের শিক্ষাসংক্রান্ত নির্দেশনামা কতটা কার্যকরী হয়েছে সেই সম্পর্কে অনুসন্ধান করা এবং ভারতে উচ্চশিক্ষার অগ্রগতি কেমন ঘটেছে সেই সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য বড়োলাট লর্ড রিপনের শিক্ষাবিদ স্যার উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে হান্টার কমিশন গঠিত হয়|পরবর্তী পর্যায়ের শিক্ষাবিস্তার সম্পর্কে সুপারিশ করাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য |



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Click Here